Logo
শিরোনাম

স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় মুক্তিযোদ্ধাসহ নৌকা প্রার্থীর তিন কর্মী আহত

প্রকাশিত:রবিবার ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৮১০জন দেখেছেন
Image
শ ম রেজাউল করিম নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সন্ত্রাসী টাইপের লোকজন এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। কাউকে নৌকায় ভোট না দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলো। সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরে নৌকার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের সমর্থকেরা।

শনিবার রাত ৯টার দিকে শারিকতলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রানীপুর গ্রামে এ ঘটে। এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় জেলার নাজিরপুর উপজেলায় আউয়ালের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ নৌকার ৩ কর্মী আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বরইবুনিয়া গ্রামে।

শ ম রেজাউল করিমের সমর্থক বাবু শেখ জানান, শারিকতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজমীর মাঝির পিএস আলামিন শেখের নেতৃত্বে সালাউদ্দিন শেখ, মোহাম্মদ ফকির, নিজাম ফকির, নুরনবী ফকির, তরিক ফকির, লালন ফকির, সিরাজ ফকির, তরিকুল ফকিরসহ একদল সন্ত্রাসী মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্বাচনী অফিসে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ ম রেজাউল করিমের ছবিসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। ভাঙচুরের পর অফিসের সিসি ক্যামেরাসহ হার্ডডিক্স নিয়ে পলিয়ে যায়।

বাবু শেখ আরো জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও শ ম রেজাউল করিম নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সন্ত্রাসী টাইপের লোকজন এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। কাউকে নৌকায় ভোট না দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলো। সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে আল আমীন শেখের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখানো কোন অভিযোগ পাইনি। তবে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া একইদিন সন্ধ্যায় জেলার নাজিরপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আউয়ালের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ নৌকার ৩ কর্মী আহত হয়েছে।

হামলায় আহতরা হলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোতাহার আলী মজুমদার (৭৬), ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. জাহিদ শেখ (৪৮) ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ছাব্বির হোসেন সর্দার (২৮)। গুরুতর আহতদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ওই ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.ছিদ্দিকুর রহমান ফকির বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার মজুমদারসহ কয়েক নেতা-কর্মী স্থানীয় বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নৌকার একটি কেন্দ্র কমিটির সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় চারঘাটা নামক স্থানে পৌঁছলে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আ.লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের পক্ষ হয়ে ওই ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন বুলু ও সাধারণ সম্পাদক দিপ্তেন মজুমদারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল তাদের ওই সভায় যেতে বাঁধা দেন। এ সময় তারা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলা করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপান্বীতা দেবনাথ বলেন, আহতদের চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে ওই ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক দিপ্তেন মজুমদার বাপ্পী মুঠোফোনে বলেন, আমাদের (স্বতন্ত্র প্রার্থী) কেহই তাদের (নৌকার প্রার্থীর কর্মী) উপর হামলার সঙ্গে জড়িত নন।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির জানান, এ ব্যাপারে এখানো কোন অভিযোগ পাইনি। তবে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আ.লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।


আরও খবর